নারীর সুস্বাস্থ্য, আত্মমর্যাদা এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ইডেন মহিলা কলেজে “পরসেবায় নারী” শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বহ্নিশিখা ইডেন কলেজ শাখার উদ্যোগে স্বাস্থ্য ও আত্মউন্নয়নের এই অনন্য আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেশন। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর এবং আজগর আলী হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ড. ঈশিতা বিশ্বাস। তিনি নারীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, মাসিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সেশনে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন বিভ্রান্তির বাস্তবসম্মত সমাধান লাভ করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে “Yoga for Women” শীর্ষক একটি বিশেষ সেশন পরিচালিত হয়। এ পর্বে নিয়মিত যোগব্যায়ামের মাধ্যমে নারীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক প্রশান্তি, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ এবং একটি সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে বিভিন্ন সহজ ও কার্যকর যোগব্যায়াম অনুশীলনের সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানে ইডেন মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শাহানাজ পারভীন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রধান প্রফেসর মো. শাহজাহান শেখ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-পরিচালক (প্রশাসন-১) জনাব শামীম আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি গ্রীন ভয়েস ও বহ্নিশিখার প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাধারণ সম্পাদক জনাব আলমগীর কবির উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনা দেন।
অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গ্রীন ভয়েস ইডেন শাখার শিক্ষক উপদেষ্টা ড. শারমিন জাহান ও প্রফেসর রিতা হালদার, গ্রীন ভয়েস রাজশাহী বিভাগের সহ-সমন্বয়ক ফাহামিদা নাজনীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হল বহ্নিশিখার সভাপতি বৈশাখি মুখার্জি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হোমায়রা খাতুন, ড. সারা বানু সুচি এবং ঝর্না আক্তার। এছাড়া গ্রীন ভয়েস ইডেন শাখার সভাপতি নুসরাত ইমরোজ তিষা ও বহ্নিশিখা ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি প্রতিভা মোস্তফা প্রাপ্তিসহ কলেজের শিক্ষকবৃন্দ ও সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, “পরসেবায় নারী” কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস, সুস্থ জীবনযাপন এবং সমাজসেবায় সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি শক্তিশালী বার্তা। সচেতন, আত্মনির্ভর ও মানবিক সমাজ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।