প্রকৌশলী, জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং গ্রীন ভয়েসের প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্মরণসভায় তাঁর কর্মময় জীবন ও জাতীয় স্বার্থে অবদানের কথা তুলে ধরে তাঁর জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা।
৯ আগস্ট তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এ নাগরিক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। একদিকে তিনি ছিলেন দেশের একজন খ্যাতনামা প্রকৌশলী, অন্যদিকে জাতীয় সম্পদ রক্ষা, পরিবেশ আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি শুধু বাংলাদেশের সম্পদ রক্ষা আন্দোলনের নেতা ছিলেন না, নিজেই ছিলেন বাংলাদেশের একটি জাতীয় সম্পদ।
তাঁর একসময়ের সহচর স্থপতি সফিউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় সূচনা বক্তব্য দেন জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম সহকর্মী রুস্তম আলী খোকন। সাবেক ছাত্রনেতা ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক ছাত্রনেতা শরীফুজ্জামান শরীফ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, স্থপতি অসিত বরণ সাহা, অ্যাডভোকেট প্রহলাদ দেবনাথ, গ্রীন ভয়েসের সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারে প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক সেন্টার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা স্টেডিয়াম সংস্কার, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভবন শিল্প ভবন, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সংস্কার এবং বাংলাদেশ বিমান ভবন সংস্কারসহ অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ ও সংস্কারে তাঁর অবদান জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।
জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, দেশের গ্যাস রপ্তানি প্রতিরোধের আন্দোলনে শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০০ সালেই তিনি দেশে ভবিষ্যৎ গ্যাস সংকটের আশঙ্কা করেছিলেন এবং গ্যাস রপ্তানির বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ২০২৫ সাল থেকে বাংলাদেশে গ্যাস সংকট শুরু হবে এবং ২০৩০ সালে বাংলাদেশ গ্যাসশূন্য হয়ে যাবে। বক্তারা বলেন, তাঁর সেই আশঙ্কা ও ভবিষ্যৎবাণীর সঙ্গে বর্তমান গ্যাস সংকটের বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে।বক্তারা আরও বলেন, প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি। জাতীয় সম্পদ রক্ষা, প্রকৌশল, পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনে তাঁর অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। এ জন্য তাঁর জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তাঁরা।
স্মরণসভায় প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর স্মরণে প্রতিবছর স্মরণসভা আয়োজন এবং তাঁর লেখা ডায়েরি প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে নিয়ে আবৃত্তি করেন উদীচীর বন্ধু অনুপ পোদ্দার ও অ্যাডভোকেট ফারহানা আক্তার। তাঁর জীবনী পাঠ করেন গ্রীন ভয়েসের সংগঠক ফাহমিদা নাজনীন।
স্মরণসভা শুরুর আগে প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।