ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে শহীদ তরিকুল, আল আমিন ও সালেকিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে গ্রীন ভয়েস কেন্দ্রীয় পরিষদ। বুধবার সকালে ঢাকার জাতীয় শহীদ মিনারে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে পুলিশ ও তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে শহীদ হন তরিকুল, আল আমিন ও সালেকিন। আহত হন দুই শতাধিক আন্দোলনকারী। পরিবেশ, মাটি, পানি, কৃষি ও মানুষের জীবন রক্ষার সেই আন্দোলন বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গ্রীন ভয়েসের পক্ষ থেকে বলা হয়, শহীদদের আত্মত্যাগের দুই দশক পরও ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পক্ষে স্বার্থান্বেষী মহলের তৎপরতা উদ্বেগজনক। উন্মুক্ত কয়লাখনি কৃষিজমি ও বসতি ধ্বংসের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, পানি ও মাটিদূষণ, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
এ সময় ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও জনপদ ধ্বংস করে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়।গ্রীন ভয়েসের পক্ষ থেকে বলা হয়, শহীদদের আত্মত্যাগকে ভুলে গেলে চলবে না। দেশের মাটি, মানুষ ও প্রকৃতি ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না।
ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে গ্রীন ভয়েসের দেশের বিভিন্ন ইউনিটে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, পাঠচক্র ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ফুলবাড়ীর শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করার পাশাপাশি ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং মাটি, মানুষ ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার দাবি তুলে ধরা হয়।