• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন
Headline
তেজগাঁও কলেজে গ্রীন ভয়েসের সাপ্তাহিক পাঠচক্র ‘প্রয়াস’-এর প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত চিলমারীতে গ্রীন ভয়েসের মেধামূল্যায়ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ বাপার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ২০২৬-এ অংশ নিল গ্রীন ভয়েস যবিপ্রবি শাখা পদ্মকুড়ি গ্রামে মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগারের মাসিক পাঠচক্র ও পুরস্কার বিতরণ গ্রীন ভয়েস প্রধান সমন্বয়কের সঙ্গে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও গৌরনদী উপজেলা টিমের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লাস্টিক ফুটপ্রিন্ট ম্যাপিংয়ের অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রীন ভয়েসের নবীন সদস্যদের ভাইভা অনুষ্ঠিত লালমনিরহাট সরকারি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থীদের উপহার ও দিকনির্দেশনা গৌরনদীতে গ্রীন ভয়েসের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে সরকারের কাছে বাপার ১০ প্রশ্ন

Reporter Name
Update : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

গঙ্গা (পদ্মা) ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০টি প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার চ্যারিটি হাউজে সিডাপ মিলনায়তনে ‘গঙ্গা (পদ্মা) ব্যারেজ: কতিপয় প্রশ্ন ও প্রস্তাব’ শীর্ষক জাতীয় মতবিনিময় সভায় এসব প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

বাপার সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ। সভায় মূল প্রবন্ধ যৌথভাবে উপস্থাপন করেন বাপার সহ-সভাপতি ও এশীয় প্রশান্তি ইনস্টিটিউট ও জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. নজরুল ইসলাম এবং বাপার সহ-সভাপতি ও কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার ভূতত্ত্ব ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খালেদুজ্জামান।

মূল প্রবন্ধে প্রস্তাবিত ব্যারেজের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার এবং এতে ৭৮টি স্পিলওয়ে ও ১৮টি তলদেশ নিঃসরণপথ থাকার তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনে গঙ্গা-নির্ভর এলাকায় পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে নদীতে প্রবাহ বৃদ্ধি, সমুদ্রের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ কমে যাওয়া এবং সুন্দরবনে মিঠাপানির প্রবাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

তবে সভায় প্রকল্পের তথ্য, পানিপ্রবাহের হিসাব এবং সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নও তোলা হয়। বক্তারা বলেন, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ২০১০ সাল পর্যন্ত পানিপ্রবাহের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে; ২০২৬ সাল পর্যন্ত তথ্য এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানিপ্রবাহ, ফারাক্কা ও উজানের বিভিন্ন অবকাঠামোর প্রভাব এবং ভবিষ্যতে পানির প্রাপ্যতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. আহাদ চৌধুরী, পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ জনাব মালিক ফিরোজ এ খান এবং আইডব্লিউএমএর সাবেক নির্বাহী পরিচালক এস এম মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচকরা মতামত দেন। আলোচনায় কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, পানি ব্যবস্থাপনা, নদীর প্রবাহ, পরিবেশ ও প্রকল্পের অর্থনৈতিক দিক উঠে আসে।
সভায় ড. নজরুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০টি প্রশ্ন তুলে ধরেন। প্রশ্নগুলোর মধ্যে ছিল প্রকল্প নিয়ে গোপনীয়তার কারণ, ব্যারেজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি ব্যবহারের পরিকল্পনা, ভাটি অঞ্চলে সম্ভাব্য প্রভাব, গঙ্গার বন্যাকালীন প্রবাহ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা, উজানে পলি জমা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা-সংক্রান্ত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, গঙ্গার পানি বণ্টনে বাংলাদেশের অবস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব এবং পুরোনো তথ্যের ভিত্তিতে প্রকল্প প্রণয়নের কারণ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যয়বহুল প্রকল্পটির উপযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে উপযুক্ত আলোচক পাঠানোর অনুরোধ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি নেই বলে উত্তর দিয়েছেন। সভায় বাপার সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় ও জাতীয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোচকরা উপস্থিত ছিলেন।


More News Of This Category