বায়ু, শব্দ, দৃষ্টি, পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে বাপার ১০ দফা সুপারিশ
Reporter Name
Update :
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
Share
বায়ু, শব্দ, দৃষ্টি, পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ প্রতিকারে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বায়ু-শব্দ-দৃষ্টি-পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ: প্রতিকার কতদূর?’ শীর্ষক সেমিনারে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির। এতে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ এবং বায়ুদূষণ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। বাপার নির্বাহী সদস্য আহসান রতনও আলোচনায় অংশ নেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন এবং বাপার নির্বাহী সদস্য ও নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, রাত ১২টার পর দেশের সব বিলবোর্ড বন্ধ করা হলে একদিকে দৃষ্টিদূষণ কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুতের অপচয়ও রোধ হবে। এ ছাড়া এ বছর বর্ষার পর কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হয়—এমন ইটভাটা বন্ধ করার ঘোষণা দেন তিনি। এসব ইটভাটার অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদেরও শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেন তিনি। পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহারের দিকে যাওয়ার পাশাপাশি তরুণদের পরিবেশ রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত করা এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধ করে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।
পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ বলেন, বর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণ পরিবেশ ও নদী বাস্তুতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করছে। তাঁর উপস্থাপনায় দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টন কঠিন বর্জ্য উৎপাদন এবং এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টন উৎপাদনের তথ্য তুলে ধরা হয়। তিনি পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে 3R নীতি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
বায়ু ও শব্দদূষণ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ বাংলাদেশের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বড় বাধা। তাঁর উপস্থাপনায় বায়ুদূষণের বিভিন্ন উৎস হিসেবে নির্মাণকাজ ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ইটভাটা ও শিল্পকারখানা, যানবাহন, আন্তঃদেশীয় দূষণ, গৃহস্থালি চুলার ধোঁয়া এবং বর্জ্য পোড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে নগরজীবনে শব্দদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অপরিকল্পিত নগরচিত্রের কারণে দৃষ্টিদূষণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে বক্তারা পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি বিকল্প পণ্যের যথাযথ মূল্যায়ন ও সহজলভ্যতার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় আসে।
সেমিনার থেকে বায়ু, শব্দ, দৃষ্টি, পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, শিক্ষাক্রমে বায়ুমান বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ ও সরকারি কাজে ব্লক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা, সিগন্যাল অটোমেশন ও Mini Asphalt Plant প্রযুক্তি চালু, শিল্পকারখানায় অনলাইন বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ৯৯৯ ও হটলাইনের প্রচারণা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি শব্দদূষণ বিধিমালা ২০২৫ কঠোরভাবে প্রয়োগ, যানবাহনের নিয়মিত শব্দ পরীক্ষা, রাত ১০টার পর LED লাইট নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুলন্ত তার গুছিয়ে রাখার সুপারিশ করা হয়।