• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
Headline
তেজগাঁও কলেজে গ্রীন ভয়েসের সাপ্তাহিক পাঠচক্র ‘প্রয়াস’-এর প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত চিলমারীতে গ্রীন ভয়েসের মেধামূল্যায়ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ বাপার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ২০২৬-এ অংশ নিল গ্রীন ভয়েস যবিপ্রবি শাখা পদ্মকুড়ি গ্রামে মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগারের মাসিক পাঠচক্র ও পুরস্কার বিতরণ গ্রীন ভয়েস প্রধান সমন্বয়কের সঙ্গে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও গৌরনদী উপজেলা টিমের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লাস্টিক ফুটপ্রিন্ট ম্যাপিংয়ের অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রীন ভয়েসের নবীন সদস্যদের ভাইভা অনুষ্ঠিত লালমনিরহাট সরকারি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থীদের উপহার ও দিকনির্দেশনা গৌরনদীতে গ্রীন ভয়েসের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করে ৭ দফা সুপারিশ বাপার

Reporter Name
Update : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সেমিনারের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। “বৃষ্টি নয়, সমন্বিত অব্যবস্থাপনায় ডুবছে ঢাকা” শীর্ষক এই সেমিনারে নগরীর জলাবদ্ধতার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করে সংকট সমাধানে ৭ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ কেবল বৃষ্টির কারণে নয়, বরং এটি নগর ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার সিদ্ধান্তহীনতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির ফল। রাজউক, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান এককভাবে কাজ করে এই সংকট দূর করতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি একটি অংশগ্রহণমূলক নগর শাসনের ওপর জোর দেন।

সেমিনারে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা ঢাকার জলাবদ্ধতার নানাবিধ কারণ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন। পানি বিজ্ঞানী অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ ব্যবস্থার নতুন মাস্টারপ্ল্যান তৈরির তাগিদ দেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. নূর আজিজুর রহমান সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ড্রেনেজ ডিজাইনের পরিকল্পনার কথা জানান। অন্যদিকে, মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, রাজনীতিক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং পরিকল্পনাবিদ মো. আনিছুর রহমানসহ অন্যান্য বক্তারা খণ্ডকালীন প্রকল্পের বদলে দীর্ঘমেয়াদি বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর আহ্বান জানান।

ভবিষ্যৎ করণীয় হিসেবে সেমিনারের শেষাংশে বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নিচের ৭টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন:

১. ঢাকার কঠিন এবং পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ ও নিকাশ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন পেশাদার নিয়োগ।

২. বর্তমান ভূ-প্রাকৃতিক ঢাল এবং উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে সড়ক পার্শ্বস্থ ড্রেন ভিত্তিক বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ভূ-গর্ভস্থ সুয়ারেজ লাইন সম্প্রসারণ করে সম্পূর্ণ নগরীকে পয়ঃবর্জ্য নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা।

৩. জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় বিচ্ছিন্ন প্রকল্প গ্রহণ না করে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, ডিজিটাল এলিভেশন মডেল (DEM), হাইড্রোলজিক্যাল ও হাইড্রোলিক মডেলিং এর মাধ্যমে নদী, খাল, লেক, জলাভূমি, জলধারণ এলাকা ও নিষ্কাশন নালাকে একটি আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থার মধ্যে নিতে হবে।

৪. নদী- খাল- জলাধার সংরক্ষণে বৈধ-অবৈধ দখলের স্পষ্ট শ্রেণিবিন্যাস ও ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন, পুনর্বাসন নীতি, ক্ষতিপূরণ কাঠামো এবং ভবিষ্যতে পুনর্দখল স্থায়ীভাবে রোধের জন্য জনসম্পৃক্ততা ও দীর্ঘমেয়াদি মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নদী-খাল- জলাধারকে নাগরিক জীবনের অংশ হিসেবে পুনস্থাপন করা।

৫. যেকোন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ প্রভাব মোকাবেলায় ওয়াটারশেড ও ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণপূর্বক বিকল্প নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নসহ বর্যাকালে পানি নিষ্কাশনে পাম্প নির্ভরতা পরিহার করে জলাধার-খাল সমূহের সাথে নদীর সংযোগ উন্মুক্ত করা।

৬. দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থাসমূহকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে ঐসকল সংস্থার পাশাপাশি অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন (আইইবি, আইএবি, বিআইপি) – সমূহকে কারিগরি সহযোগী হিসেবে যুক্ত করে একটি প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক কাঠামো (Participatory Governance Framework) গড়ে তোলা।

৭. সর্বোপরি, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন একক প্রকল্প হিসেবে গন্য না করে  বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রকৌশলগত বাস্তবভিত্তিক সমাধান নিশ্চিত করা।


More News Of This Category